​ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া জ্বর রোধে করনীয় 

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া জ্বর রোধে করনীয় :


ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া কি :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ভাইরাসজনিত জ্বর যা এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। সাধারণ চিকিৎসাতেই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া জ্বর সেরে যায়, তবে হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর মারাত্মক হতে পারে। এডিস মশার বংশ বৃদ্ধি রোধের মাধ্যমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে করনীয় :

১। আপনার ঘর/বাড়ী এবং আশেপাশে যে কোন পাত্র বা জায়গায় জমে থাকা পানি ০৩ দিন পরপর ফেলে দিলে এডিস মশার লাভা মরে যাবে।
২। অপ্রয়োজনীয়/পরিত্যক্ত পানির পাত্র ধ্বংস অথবা উল্টে রাখতে হবে যাতে পানি না জমে।
৩। দিনে এবং রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারী ব্যবহার করতে হবে।
৪। বর্ষার সময় এ রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই এ সময় অধিক সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
৫। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সম্পর্কিত যে কোন প্রয়োজনে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র/হাসপাতালে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

সবাই সুস্থ্য থাকুন, নিরাপদে থাকুন।
ধন্যবাদ। 

পথশিশু 

আমাদের অবহেলা পথশিশুদের ঠেলে দিচ্ছে অন্যায়ের পথে 
স্বাধীন দেশে এ পথশিশুদেরও সমান সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বড় হওয়ার অধিকার আছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এ মৌলিক চাহিদাগুলো যথোপযুক্তভাবে পাওয়ার অধিকার তাদেরও আছে। উন্নত দেশগুলোতে দেখা যায়, প্রত্যেকটি শিশুর দায়িত্ব রাষ্ট্র কোনো না কোনোভাবে পালন করে। বেশি খেয়াল রাখা হয় প্রত্যেক শিশুর সুস্থ জীবনযাপনের প্রতি। গড়ে দেওয়া হয় প্রত্যেক শিশুর ভবিষ্যৎ বিভিন্ন সুন্দর পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে, কোনো শিশু যেন অবহেলার শিকার না হয়।

অথচ দুর্ভাগ্যের বিষয়, আশঙ্কাজনক হারে বাংলাদেশে বেড়ে চলেছে পথশিশুর সংখ্যা। মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দেশের ১০ লাখেরও বেশি পথশিশু। এদের বেশির ভাগই অপুষ্টি, যৌনরোগ ও মাদকের নেশায় আক্রান্ত। সর্বনাশা মাদকের বিষে আসক্ত হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পথশিশু। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য মতে, পথশিশুদের ৮৫ ভাগই কোনো না কোনোভাবে মাদক সেবন করে। এর মধ্যে ১৯ শতাংশ হেরোইন। ৪৪ শতাংশ ধূমপান, ২৮ শতাংশ বিভিন্ন ট্যাবলেট ও আট শতাংশ ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে নেশা করে থাকে।

সংগঠনটির তথ্যানুযায়ী ঢাকা শহরে কমপক্ষে ২২৯টি স্পট রয়েছে যেখানে নয় থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুরা মাদক সেবন করে। পথশিশুরা সাধারণত গাঁজা, হেরোইন, ঘুমের ওষুধ, ডাণ্ডি, পলিথিনের মধ্যে গামবেল্ডিং দিয়ে এবং পেট্রোল শুঁকে নেশা করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ২১টি স্পটে সূঁচের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ, ৭৭টি স্থানে হেরোইন সেবন এবং ১৩১টি স্থানে গাঁজা ও গ্লোসিন সেবন করা হয়।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সূত্র মতে, ঢাকা বিভাগে মাদকাসক্ত শিশুর প্রায় ৩০ শতাংশ ছেলে এবং ১৭ শতাংশ মেয়ে। মাদকাসক্ত ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ছেলে এবং মেয়ে শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পথশিশুদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন জানায়, মাদকাশক্ত ৮০ শতাংশ পথশিশু মাত্র সাত বছরের মধ্যে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে যায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক গবেষণা জরিপের মাধ্যমে জানা যায়, মাদকাসক্ত শিশুদের ড্রাগ গ্রহণ ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ৪৪ শতাংশ পথশিশু, পিকেটিংয়ে জড়িত ৩৫ শতাংশ, হাইজ্যাকের সঙ্গে ১২ শতাংশ, ট্রাফিকিংয়ে ১১ শতাংশ, আন্ডারগ্রাউন্ড সন্ত্রাসীদের সোর্স হিসেবে পাঁচ শতাংশ ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত ২১ শতাংশ, বোমাবাজির সঙ্গে জড়িত ১৬ শতাংশ পথশিশু। চাল-চুলা ও ঠিকানাহীন এসব শিশু সারা দিন কাগজ কুড়িয়ে, বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে বা শ্রমবিক্রি করে পারিশ্রমিক হিসেবে যা পায় তা দিয়েই চলে এদের মাদক সেবন। নকটিন, সিলিকসিন ও সোনালি নামের নেশার ট্যাবলেট খায় এরা। এছাড়া নিয়মিত স্টিক (গাঁজা দিয়ে বানানো সিগারেট) খায় সবাই।

আগামীর বাংলাদেশকে সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নিতে হলে এসব শিশুর কল্যাণে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন। যেখানে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা থাকবে এবং সেই কর্মপন্থার আলোকে পথশিশুর অধিকার নিশ্চিত করা, আইন প্রণয়ন, প্রকল্প গ্রহণ ও বরাদ্দ, পথশিশুর সংজ্ঞা যুগোপযোগী, গবেষণা, পথশিশুর তথ্য হালনাগাদ এবং পথশিশুর পথে আসার যে প্রবণতা সেটি বন্ধের একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকবে। তা না হলে নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এ পথশিশুদের ভবিষ্যৎ যদি এভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রতিনিয়ত চলতে থাকে, তাহলে তাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা ক্রমেই বাড়বে।

ধর্ষণ অভিশাপ 

ধর্ষণ! বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম। ধর্ষণকে আমি একটি রোগ হিসেবেই দেখবো। মারাত্মক মরনব্যাধী রোগ। ধর্ষণকে একটি ছোঁয়াচে রোগ হিসেবেই আমি আখ্যায়িত করবো। এর কারনটা অতি সাধারণ। প্রতিদিন যেই গড় হিসেবে বাংলাদেশের ধর্ষণ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে এটাকে ছোঁয়াচে রোগই বলা বাহুল্য। প্রতিদিন বাংলাদেশের আনাচেকানাচে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে হাজারো মা-বোন, শিশু-কিশোরী, তরুণ-তরুণীরা। এর ফলে ঘটছে আত্নহনন এর প্রবণতা। অকালেই হারিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আশার আলো। এভাবে আর কতটি নিরীহ প্রাণ বলী দিতে হবে তার হিসেব কারো কাছে আছে কি? তাহলে আমাকে জানাবেন অবশ্যই। ধর্ষণের ফলে একজন নিরপরাধ মেয়ের জীবনে যে ক্ষতি সাধন হয়, সারাজীবন ভরে ভালো কাজ করে গেলেও সেই কালো দাগটি ধর্ষিত মেয়ের জীবন থেকে মুছে দেয়া সম্ভব নয়। সেই স্মৃতিগুলো কুরে কুরে খায় মেয়েটার অবসরকে, মেয়েটার দেখা সুন্দর স্বপ্নগুলোকে এবং এগিয়ে যাবার প্রত্যয়ে মেয়েটার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে ধুয়ে-মুছে ধ্বংস করে দেয়। আর সেই ধ্বংসযজ্ঞে পুরতে থাকে পরিবার ও সে নিজে। 
কেনো হয় এই ধর্ষণ? কে বা কারা করছে এই জঘন্যতম কাজটি। ধর্ষণের ক্ষেত্রে কারা দায়ী? ছেলেরা নাকি খোদ মেয়েরাই এই অপকর্মটির জন্য দায়ী। মেয়েদের নির্লজ্জ পোশাক বা খোলামেলা চলাফেরা ধর্ষণের ক্ষেত্রে কতটা দায়ী তার নিখাদ প্রমাণ আমার হাতে নেই। নারীরা নারীসুলভ আচরণ করবে এটাই স্বাভাবিক। অবাধ খোলামেলা চলাফেরা নারীদের ক্ষেত্রে কাম্য নয়। নিজের পরিবার, সমাজ ও ধর্মের কথা বিবেচনা করে নারীদের শালীনতা বজায় রাখা একান্ত অপরিহার্য। অপরপক্ষে ধর্ষণ ঘটনার মূল হোতা হিসেবে কিছু কুলাঙ্গার ছেলেদেরকে ধরা হয়। ছেলেদের দৃষ্টিভঙ্গি নিচু রাখতে পারলে ধর্ষণ কখনো ঘটবে না এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবেই কি ছেলেদের দৃষ্টিভঙ্গি নিচু আছে? পারিবারিক অবহেলা, অপসংস্কৃতি, ভুল শিক্ষা, ইসলাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকা, সামাজিক বৈষম্য, ব্যক্তিত্বহীনতা, প্রাপ্ত বয়সেও বিবাহ না করা, বেকার সমস্যাই ধর্ষণ ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারন বলে আমি মনে করি। একজন ছেলেকে পারিবারিকভাবে সঠিক শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা দিলে সেই ছেলে কখনো বিপথগামী হতে পারে না। ধর্ষণ ঘটনা কমাতে অপসংস্কৃতি সম্পর্কে অবহিত হতে হবে। সঠিক ইসলামি জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এবং সেই জ্ঞান অনুযায়ী জীবন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সামাজিক বৈষম্য, ভুল শিক্ষা ও ব্যক্তিত্বহীনতা ধর্ষণ ঘটনার জন্য অনেকটা দায়ী। বেকার সমস্যার ফলেও বৃদ্ধি পাচ্ছে ধর্ষণ। একজন শিক্ষিত চাকুরীজীবী ছেলে কখনো এমন জঘন্য কার্যকলাপে নিজেকে জরাতে চাইবে না এটা স্বাভাবিক।

ধর্ষণ ঠেকাতে চাই সরকারি কার্যকরী পদক্ষেপ। ধর্ষণকারীর বিচার হতে হবে অতি দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক। যাতে করে নতুন করে অন্য কোন ছেলে এই পাপ কাজটি করার আগে শতবার চিন্তা করে। ধর্ষণ শুধুমাত্র একটি ব্যাধি নয়। এটি দেশ জাতির জন্য অনেক বড় একটি অভিশাপ। এই অভিশাপের কালো অধ্যায় থেকে বাংলাদেশ ও বাঙ্গালি জাতিকে রক্ষা করতে হবে। আর সেই গুরুদায়িত্বটা নিতে হবে সম্পূর্ণ আমার, আপনার ও আমাদের। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই ধর্ষণ নামক এই ব্যাধি ও অভিশাপ থেকে আমাদের বাঙ্গালি জাতিকে মুক্ত করবে বলে আমি আশাকরি। 

জঙ্গিবাদ 

বর্তমান আধুনিক বিশ্ব আমাদের জীবনকে অনেক আধুনিক ও সক্রিয় করে তুলেছে। আধুনিকায়নের ফলে আমরা পৃথিবীর মানুষ আজ নানা সুবিধা ভোগ করছি। এই অবদান ভুলার মত নয়। কিন্তু আধুনিক বিশ্ব আমাদেরকে শুধুমাত্র ভালো দিকগুলো উপহার দিয়েছে তা কিন্তু নয়। প্রত্যেক জিনিসের যেমন একটা ভালো দিক আছে ঠিক তেমন একটা খারাপ দিকও আছে তার। ভালো আর খারাপের সংমিশ্রণে আমাদের সমাজ গঠিত ও নিয়ন্ত্রিত। 
এই আধুনিক সমাজেও জঙ্গিবাদ নামক অভিশাপ আমাদের পিছু হটছে না। প্রতিনিয়ত এই জঙ্গিবাদ আমাদেরকে শাস্তি দিচ্ছে। আমাদের সমাজ ও দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিপথগামী করে দিচ্ছে আমাদের তরুণ সমাজকে। ব্যাহত করছে নৈতিক শিক্ষাব্যবস্থা। জঙ্গিবাদ শুধুমাত্র একটি সমাজ বা একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জঙ্গিবাদের প্রভাব পরেছে পুরো বিশ্বজুড়ে।

কেনো এই জঙ্গিবাদ? কেন এই হত্যা জজ্ঞ? কে বা কারা করছে এসব জঘন্যতম কার্যকলাপ? এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়াটা কষ্টসাধ্য। ইসলামের নামে যারা জঙ্গিবাদে লিপ্ত হয়, জঙ্গিবাদের নামে যারা নিরীহ মানুষ হত্যা করে তাদেরকে মুসলমান বলা হারাম। বিনাকারনে মানুষ হত্যাকারী কখনো একজন প্রকৃত মুসলমান হওয়ার অধিকার রাখে না।