শব্দ দূষণ বন্ধ করুণ 

শব্দ দূষণ বন্ধ করুন 
শব্দ দূষণ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক বিরাট সমস্যা। বর্তমান আধুনিক যুগেও শব্দ দূষণ নামক ব্যাধি আমাদেরকে প্রতিনিয়ত অশান্তির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অতিরিক্ত শব্দ দূষণের ফলে বাড়ছে মানসিক চাপ, কমে যাচ্ছে আমাদের স্বাভাবিক শ্রবণ শক্তি এবং সেই সাথে বাড়ছে কানের বড় বড় জটিল সমস্যা। যার চিকিৎসা ব্যয় সাধারণের আওতার বাইরে চলে গেছে।

শব্দ দূষণ একটি অপরাধমূলক কাজ। শব্দ দূষণের ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, কর্মক্ষেত্র, হাসপাতালের রোগীদের অতিরিক্ত মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শব্দ দূষণ বন্ধ করতে সরকার বহুবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। কারন সরকার এখনো পর্যন্ত কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এবং কোন আইনানুগ ব্যবস্থাও নেয়া হয়না শব্দ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে। তাই তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে প্রতিদিন। শব্দদূষণ রোধ করার জন্য সরকার হাইড্রোলিক হর্ন আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু এরপরও শব্দদূষণ কমছে না বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে।

শব্দ দূষণ রোধে আমাদের দেশে আইনের কমতি নেই। কমতি রয়েছে প্রয়োগের। ২০০২ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সংস্থা (বেলা) শব্দদূষণ বন্ধে আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। ২০০২ সালের ২৭ মার্চ উচ্চ আদালত হাইড্রোলিক হর্ন এবং বিকট শব্দ সৃষ্টিকারী যে কোন ধরনের হর্ন গাড়িতে সংযোজনের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং গাড়িতে বাল্ব হর্ন সংযোজনের নির্দেশ প্রদান করে। এই আইন ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে শাস্তির বিধানও প্রচলিত আছে। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ ১৯৭৬ এর ২৫, ২৭, ২৮ ধারামতে শব্দদূষণ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে অর্থদন্ড ও কারাদন্ড উভয়েরই বিধান রয়েছে। মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর ১৩৯ এবং ১৪০ নং ধারায় নিষিদ্ধ হর্ন ব্যবহার ও আদেশ অমান্য করার শাস্তি হিসেবে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদন্ড ও অর্থদন্ডের বিধান রয়েছে। ১৯৯৭ সালের পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নীরব এলাকায় ভোর ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ৪৫ ডেসিবল এবং রাতে ৩৫ ডেসিবল, আবাসিক এলাকায় দিনে ৫০ ডেসিবল এবং রাতে ৪০ ডেসিবল, মিশ্র এলাকায় দিনে ৬০ ডেসিবল ও রাতে ৫০ ডেসিবল, বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ডেসিবল ও রাতে ৬০ ডেসিবল এবং শিল্প এলাকায় দিনে ৭৫ ডেসিবল ও রাতে ৭০ ডেসিবলের মধ্যে শব্দের মাত্রা থাকা বাঞ্ছনীয়। এই আইন অনুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকার নির্ধারিত কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে ১শ মিটার পর্যন্ত এলাকাকে নীরব এলাকা চিহ্নিত করা হয়।

শব্দ দূষণের বিরূপ প্রভাব শুধু মানবজাতি নয়, পশুপাখির ওপরও পরছে। শব্দ দূষণের ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বিলুপ্ত হচ্ছে নানা জাতের পশুপাখি। এ ক্ষতি পুড়ো বাঙ্গালি জাতির। এভাবে চলতে থাকলে একসময় পশুপাখিগুলো আমাদের শহর থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে। যা আমাদের জন্য অমঙ্গল বয়ে আনবে।

আমাদের ঢাকাশহরসহ বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে যানবাহন এবং একই সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে শব্দ দূষণও। এই হার হ্রাস করতে হলে এখনই আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে। শব্দ দূষণের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে সবাইকে অবগত করতে হবে। নিজে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি সতর্ক করতে হবে চালকদেরকে। রাজধানীতে যানজট সমস্যার পাশাপাশি শব্দদূষণ একটি মারাত্মক সমস্যা। আইন থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ না থাকার কারণে দূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। এ জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা। 

বাঙ্গালীর সপ্ন: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট 

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবার পর থেকে শুরু হয় নতুনভাবে সবুজ বাংলা বিনির্মাণের কাজ। প্রতিনিয়ত চলতে থাকে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড। যার ফল ভোগ করছি আমরা পুড়ো বাঙ্গালী জাতি। ২০১৫ সালে অক্টোবরে মন্ত্রীসভা থেকে “বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট” উৎক্ষেপণে স্যাটেলাইট সিস্টেম কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়। আর সেই থেকেই শুরু হয় কোটি বাঙ্গালীর নতুন স্বপ্ন দেখা। বাংলাদেশকে বিশ্বমানচিত্রে মাথা নতুনভাবে উপস্থাপন করে বিশ্বজয় করার স্বপ্ন দেখি আমরা। আমাদের এ স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে খুব শীঘ্রই। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসেই এ স্যাটেলাইটটি  উৎক্ষেপণ করা হবে বলে ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। এবং ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে এবছরই তৈরি হবে বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস। যার সাক্ষী হিসেবে থাকবে পুড়ো বিশ্ব। 

“বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট” নির্ধারিত সময়ে সঠিকভাবে উৎক্ষেপণ করা হলে বাংলাদেশ উন্নয়নের এক নতুন ধারায় পৌঁছে যাবে। যার সুবিধা পাবে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ। প্রযুক্তি খাতে যুক্ত হবে এক নতুন দ্বারপ্রান্ত। ডিজিটাল বাংলাদেশ কথাটি কাটায় কাটায় পূর্ণ হবে। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ জয়ের পর এটি হবে আমাদের আরেকটি অন্যতম বিজয়। পূর্ণ হবে বাঙ্গালীর স্বপ্ন আর স্বপ্নের “বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট”। 

“বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট” উৎক্ষেপণের ফলে আমরা প্রযুক্তি খাতে উন্নতির পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও আরো সমৃদ্ধ হতে পারবো। কারন এ স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ২০টি বাংদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে এবং বাকিগুলো ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। আর এতে করেই আমরা ডাবল উন্নতির দিকে পৌঁছাতে পারবো। যেটা বাংলাদেশের জন্য সার্বিক কল্যাণ বয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি। এধরনের মহৎ উদ্যোগই বাংলাদেশকে উন্নতির চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছে দিবে। 

মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন 

মাদক! বাংলাদেশের যুব সমাজ ধ্বংস ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অন্যতম প্রধান কারন।  মাদকের ভয়াল গ্রাস একটি দেশ বা জাতির ধ্বংস করে দিতে পারে মুহূর্তেই। দেশের চলমান মাদক সমস্যা বিরাট আকার ধারণ করেছে। যা খুব সহজে বা খুব তাড়াতাড়ি সমাধান করা সম্ভবপর নয়। চাই কার্যকরী পদক্ষেপ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি।

মাদক মানুষের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায়, অর্থনৈতিক ঈ সামাজিক অবক্ষয়ের কারনও এই মাদক। বর্তমান অবস্থা এমন হয়েছে যে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও হাত বাড়ালেই খুজ সহজে পাওয়া যায় মাদক। আর এতে করে মাদক সেবন প্রবণতা বেড়ে যায় দ্বিগুণ। 

প্রায় সব বয়সের মানুষই কম বেশি মাদকের সাথে জড়িত। এ তালিকায় পথশিশু, বৃদ্ধ ও নারীরাও বিদ্দমান। হতাশা, পারিবারিক বিচ্ছেদ ও অবহেলা, পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত, খারাপ সঙ্গ ইত্যাদি কারনে মানুষই এই ভয়ংকর মাদকের দিকে হাত বাড়ায়। তরুন সমাজকে ধ্বংস করে দেয় এই মাদক।  মাদক সেবনের ফলে অকালে প্রান হারায় হাজারো মানুষ। 

মাদকের সহজলভ্যতা মাদক সেবনে উৎসাহ বাড়িয়ে দেয়। হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া গেলে মানুষ মাদক থেকে কিভাবে দূরে থাকবে? মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক কার্যক্রম মাদক বন্ধ করতে সক্ষম নয়। তল্লাশি অভিযান চালিয়ে হয়তো কিছু মাদক ধ্বংস এবং কিছু মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া সম্ভব। কিন্তু তাদের একার পক্ষে বাংলাদেশ থেকে মাদক ও মাদক ব্যবসায়ী নির্মূল করা সম্ভব নয়। আর কিভাবেই সম্ভব হবে? যখন বাংলাদেশের কোন হাই প্রোফাইল ব্যক্তির গাড়ির সিটে করে মাদক লেনদেন হয়, তখন কিভাবে তা নির্মূল হবে? বাংলাদেশ পুলিশ কিমবা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কি ততোটুকো ক্ষমতা আছে যার দ্বারা তারা হাই প্রোফাইল ব্যক্তিদের গাড়ি তল্লাশি করতে পারবে? আর ক্ষমতা থাকলেও তার সদ্ব্যবহার তারা করতে পারে? যদি পারতো তবে বাংলাদেশে মাদক প্রবণতা এভাবে বৃদ্ধি পেতো না। 

মাদকের প্রথম ধাপ হলো ধূমপান। ধূমপায়ীরাই মাদক সেবনে আগ্রহী হয়ে থাকে। এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বিশ্বের ৮০ ভাগ মাদক সেবনকারী ধূমপায়ী। প্রথমে তারা ধূমপান দিয়ে শুরু করে তারপর জরিয়ে পরে মাদকের দিকে। একবার মাদকের নেশায় ঢুকে পড়লে তা থেকে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে প্রায় সব ধরনের মাদকদ্রব্য ই পাওয়া যায়। যার মধ্যে মদ, গাজা, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, হেরোইন, কোকেন, ড্যান্ডি অন্যতম। এসব মাদকদ্রব্যের সামান্য অংশ বাংলাদেশে তৈরি হয়। বাকি বড় অংকের চালান আসে পার্শ্ববর্তী বাইরের দেশগুলো থেকে। বাংলাদেশর সার্বিক ক্ষতি সাধনের জন্য বাইরের দেশগূলো  শতভাগ তৎপর। বাংলাদেশকে মাদকদ্রব্য দিয়ে ভরপুর করে রাখছে। এতে করে তাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঠিকই হচ্ছে কিন্তু আমাদের দেশ ক্ষতি ও ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে। মাদকদ্রব্য দিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করার পায়তারা করছে আমাদের শত্রুরা। 

মাদকদ্রব্য আমাদের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই দিতে পারবে না। বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করার লক্ষে প্রয়োজন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করা,  আইনগত তৎপরতা, সরকারের হস্তক্ষেপ, জনগণের আন্দোলন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশিক্ষা। তরুন সমাজ ও দেশকে মাদকের ভয়াল আগ্রাসন থেকে উদ্ধার করতে সকলে এগিয়ে আসুন। মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। 

​ইন্টারনেট এর অপব্যবহার

বর্তমান আধুনিক বিশ্বে ইন্টারনেট একটি পরিচিত নাম। ইন্টারনেট ব্যবহার করেনা এরকম ব্যক্তির সংখ্যা পৃথিবীতে সীমিত। বর্তমান আধুনিক বিশ্বের প্রায় সবাই তাদের দৈনিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, ব্যবসায়ীক যোগাযোগ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। ইন্টারনেট এর মাধ্যমে ইমেইল, ফেসবুক, ইউটিউব এর মত জনপ্রিয় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সাহায্যে তারা পারস্পারিক যোগাযোগ স্থাপন করছে।
আধুনিক বিশ্বের প্রতিটি মূল্যবান আবিস্কারের যেমন একটি ভালো দিক আছে ঠিক তেমনি একটি খারাপ দিকও আছে। কেউ ভালো দিকে ব্যবহার করছে আবার কেউবা খারাপ দিকে করছে। ইন্টারনেট একদিকে যেমন আমাদের পারস্পারিক যোগাযোগ সহজ করে তুলছে অন্যদিকে ইন্টারনেট এর অপব্যবহার এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের শিশু-কিশোর, তরুন-তরুণী ও যুবক-যুবতীরা। ইন্টারনেট এর ভুল ব্যবহার করে তারা যেমন একদিকে নিজেদের ক্ষতি করছে ঠিক তেমনিভাবে সমাজ ও দেশের ক্ষতি করছে।

ইন্টারনেট এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার এর ফলে তাদের লেখাপড়ায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। সারাদিন ফেসবুক, ইউটিউব দেখার ফলে আক্রান্ত হচ্ছে চোখের বিভিন্ন সমস্যায়। ইন্টারনেট ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন উগ্রবাদী সংগঠন ও নানান খারাপ কাজ-কর্মে লিপ্ত হচ্ছে।  এর ফলে অর্থনৈতিক ও শারীরিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের দেশের আধুনিক সমাজ। খেলাধুলো বাদ দিয়ে শুধু প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে উঠছে আধুনিক বিশ্বের ছেলেমেয়েরা। যার ফলে তারা একপ্রকার একাকীত্ব জীবন নির্বাহ করছে। আর প্রতিদিনই বারছে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের হার। 

আমাদের সমাজের ছেলেমেয়েগুলোকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার মূল দায়িত্ব হলো অভিভাবকদের। অভিভাবকরাই পারে তাদের সন্তানদেরকে প্রযুক্তি নির্ভর না করে একজন সচেষ্ট নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে। 

বাংলা ভাষার অপব্যবহার 

বর্তমান আধুনিক যুগ আমাদের অনেক সুবিধা দিয়ে থাকলেও আমাদের থেকে প্রতিনিয়ত ছিনিয়ে নিচ্ছে অতি মূল্যবান সম্পদ। ঠিক তেমনই একটি মূল্যবান সম্পদ হল আমাদের মাতৃভাষা। আমাদের বাংলা ভাষা। 

আমাদের দেশের আধুনিক তরুন-তরুনীরা আমাদের মাতৃভাষার বিকৃতি ঘটাচ্ছে প্রতিনিয়ত। যা হয়তো আমাদের চোখ, কান এড়িয়ে যায়। তারা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করছে বাংলা ভাষার বিকৃতি করে। কোন বিষয়ে ভালো লাগলে তারা সেটাকে “জোস অথবা অস্থির অথবা জটিল” এরকম ভাষা ব্যবহার করে। এগুলো কি বাংলা ভাষার বিকৃত রুপ নয় ! তবে বর্তমানে তারা আরেকটি নতুন বিষয় এর ওপর গুরুতরভাবে আক্রান্ত হয়েছে।

আর সেটি হলো “প্যারা”। সবাই কম বেশি “প্যারা” খেয়ে অভ্যস্ত বর্তমান আধুনিক যুগের তরুন-তরুনীরা। আগের যুগে ছোটবেলায় আমরা “প্যার সন্দেশ” অথবা জ্বর ঠাণ্ডা হলে “প্যারাসিটামল” খাইতাম। তবে বর্তমান চিত্র পুরোটাই উল্টো। এই পোস্ট টি হয়তো অনেক আধুনিক মানুষের মন খারাপ হওয়ার কারন হতে পারে। তবে আমার কথাগুলো চিন্তা করলে হয়তো আমরা আমাদের মাতৃভাষার সঠিক ব্যবহার প্রয়োগ করতে পারবো। ধন্যবাদ।