মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন 

মাদক! বাংলাদেশের যুব সমাজ ধ্বংস ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অন্যতম প্রধান কারন।  মাদকের ভয়াল গ্রাস একটি দেশ বা জাতির ধ্বংস করে দিতে পারে মুহূর্তেই। দেশের চলমান মাদক সমস্যা বিরাট আকার ধারণ করেছে। যা খুব সহজে বা খুব তাড়াতাড়ি সমাধান করা সম্ভবপর নয়। চাই কার্যকরী পদক্ষেপ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি।

মাদক মানুষের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায়, অর্থনৈতিক ঈ সামাজিক অবক্ষয়ের কারনও এই মাদক। বর্তমান অবস্থা এমন হয়েছে যে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও হাত বাড়ালেই খুজ সহজে পাওয়া যায় মাদক। আর এতে করে মাদক সেবন প্রবণতা বেড়ে যায় দ্বিগুণ। 

প্রায় সব বয়সের মানুষই কম বেশি মাদকের সাথে জড়িত। এ তালিকায় পথশিশু, বৃদ্ধ ও নারীরাও বিদ্দমান। হতাশা, পারিবারিক বিচ্ছেদ ও অবহেলা, পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত, খারাপ সঙ্গ ইত্যাদি কারনে মানুষই এই ভয়ংকর মাদকের দিকে হাত বাড়ায়। তরুন সমাজকে ধ্বংস করে দেয় এই মাদক।  মাদক সেবনের ফলে অকালে প্রান হারায় হাজারো মানুষ। 

মাদকের সহজলভ্যতা মাদক সেবনে উৎসাহ বাড়িয়ে দেয়। হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া গেলে মানুষ মাদক থেকে কিভাবে দূরে থাকবে? মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক কার্যক্রম মাদক বন্ধ করতে সক্ষম নয়। তল্লাশি অভিযান চালিয়ে হয়তো কিছু মাদক ধ্বংস এবং কিছু মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া সম্ভব। কিন্তু তাদের একার পক্ষে বাংলাদেশ থেকে মাদক ও মাদক ব্যবসায়ী নির্মূল করা সম্ভব নয়। আর কিভাবেই সম্ভব হবে? যখন বাংলাদেশের কোন হাই প্রোফাইল ব্যক্তির গাড়ির সিটে করে মাদক লেনদেন হয়, তখন কিভাবে তা নির্মূল হবে? বাংলাদেশ পুলিশ কিমবা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কি ততোটুকো ক্ষমতা আছে যার দ্বারা তারা হাই প্রোফাইল ব্যক্তিদের গাড়ি তল্লাশি করতে পারবে? আর ক্ষমতা থাকলেও তার সদ্ব্যবহার তারা করতে পারে? যদি পারতো তবে বাংলাদেশে মাদক প্রবণতা এভাবে বৃদ্ধি পেতো না। 

মাদকের প্রথম ধাপ হলো ধূমপান। ধূমপায়ীরাই মাদক সেবনে আগ্রহী হয়ে থাকে। এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বিশ্বের ৮০ ভাগ মাদক সেবনকারী ধূমপায়ী। প্রথমে তারা ধূমপান দিয়ে শুরু করে তারপর জরিয়ে পরে মাদকের দিকে। একবার মাদকের নেশায় ঢুকে পড়লে তা থেকে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে প্রায় সব ধরনের মাদকদ্রব্য ই পাওয়া যায়। যার মধ্যে মদ, গাজা, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, হেরোইন, কোকেন, ড্যান্ডি অন্যতম। এসব মাদকদ্রব্যের সামান্য অংশ বাংলাদেশে তৈরি হয়। বাকি বড় অংকের চালান আসে পার্শ্ববর্তী বাইরের দেশগুলো থেকে। বাংলাদেশর সার্বিক ক্ষতি সাধনের জন্য বাইরের দেশগূলো  শতভাগ তৎপর। বাংলাদেশকে মাদকদ্রব্য দিয়ে ভরপুর করে রাখছে। এতে করে তাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঠিকই হচ্ছে কিন্তু আমাদের দেশ ক্ষতি ও ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে। মাদকদ্রব্য দিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করার পায়তারা করছে আমাদের শত্রুরা। 

মাদকদ্রব্য আমাদের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই দিতে পারবে না। বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করার লক্ষে প্রয়োজন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করা,  আইনগত তৎপরতা, সরকারের হস্তক্ষেপ, জনগণের আন্দোলন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশিক্ষা। তরুন সমাজ ও দেশকে মাদকের ভয়াল আগ্রাসন থেকে উদ্ধার করতে সকলে এগিয়ে আসুন। মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s