​বাংলাদেশের রাজনীতি এবং গুম 

বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী গুম একপ্রকার আতঙ্কের নাম। যে আতঙ্কে পুড়ো বাংলাদেশই আতঙ্কিত হয়ে আছে। এই গুম আতঙ্কের পিছনের কারন এখন পর্যন্ত অজানা। যার কোনরূপ সুরাহা হয়নি। দেশের বর্তমান অবস্থা এমন হয়েছে যে, দেখা যায় প্রায় দুইমাস পর পরই দেশের কোন না কোন স্থানে গুমের ঘটনা ঘটছে। যার শিকার হচ্ছে হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিবর্গ, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, কবি-সাহিত্যিক, লেখকগনরা। অধিকাংশ গুমের ঘটনার শেষ পরিণতি হচ্ছে হত্যা। গুমের পর ঐ ব্যক্তিকে হত্যা করা অথবা নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করাই গুমের মূল লক্ষ্য। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে গুমের পর গুম হওয়া ঐ ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে সে ছাড়া পাওয়ার পর কোনরূপ মুখ খোলে না। যার কারন আজও অজানা। 
কেন হয় গুম? গুমের নেপথ্যে কারা ? গুমের উদ্দেশ্য কি রাজনীতি নাকি ব্যক্তিগত সার্থ? এই প্রশ্নের উত্তর শুধুমাত্র গুম হওয়া ব্যক্তিরাই জানতে পারে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় যে আজ পর্যন্ত গুম হওয়ার কোন ঘটনারই পেছনের ঘটনা বা গুমের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। কেন তারা মুখ খুলেনা? এর ভিতরে কোন রহস্য লুকিয়ে আছে তা আমার জানা নেই। আর সেটা না জানারই কথা। কারন এত বড় ঘটনার রহস্য একজন সাধারণ জনগণ হিসেবে আমার পক্ষে জানা সম্ভব নয়।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ২০১৬ সালেই অন্তত ৯০ ব্যক্তি গুমের শিকার হন। কিন্তু এইচআরডব্লিউ এর তথ্যানুযায়ী, আটক হওয়া ২১ জনকে হত্যা করা হয়। এবং ৯ জনের অবস্থা এখনও জানা যায়নি। গুম হওয়া ৯০ জনের মধ্যে জামায়াত নেতা গোলাম আযমের ছেলে আমান আযমী ও মীর কাসেম আলীর ছেলে মীর আহমেদ বিন কাসেম এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী অন্তর্ভুক্ত। বর্তমান সময়ে গুমের সাথে রাজনীতির একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। যা সবার চোখেই কমবেশি লক্ষ্য করা যায়। দেশের কোথাও গুমের ঘটনা ঘটলেই দেশের রাজনীতিতেও নতুন মোড় সংযোজিত হয়। ক্ষমতাশীল ও বিরোধী দলের মধ্যে শুরু হয় তর্ক বিতর্কের ঢেউ। গুম-খুনের ঘটনা নিয়ে শুরু হয় তাদের রাজনীতি। যখন সরকারপক্ষ গুমের বিপক্ষে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে ব্যস্ত থাকে ঠিক তখনি বিরোধীপক্ষ সরকারের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে শুরু করে অপপ্রচার। শুরু হয় হিংসা ও বিদ্বেষের রাজনীতি। এতে একপক্ষের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় আর অপরপক্ষ আনন্দ মিছিল শেষে সভার আয়োজন করে।

সরকার ও বিরোধী পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি বিপরীতমুখী রাজনীতির প্রভাব পড়ে দেশের সাধারণ জনগনের ওপর। বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক দাঙ্গার নামে প্রান হারায় কিছু নিষ্পাপ সাধারণ প্রান। এই প্রান হারানোর দায়ভার কার ওপর দিবে সাধারণ জনগণ? সরকারের ওপর নাকি বিরোধীপক্ষের দিকে? কারো কাছে এর উত্তর আছে কি?

আমরা সাধারণ জনগণ চাই শান্তি। আমরা চাই দেশের উন্নয়ন। হিংসা আর বিদ্বেষের রাজনীতি কখনোই দেশের উন্নয়ন ঘটাতে পারে না। সুতরাং আসুন আমরা দেশকে ভালোবেসে দেশের কল্যাণে কাজ করি। অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। গুম ও খুনের রাজনীতি বন্ধ করে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করি। 

শব্দ দূষণ বন্ধ করুণ 

শব্দ দূষণ বন্ধ করুন 
শব্দ দূষণ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক বিরাট সমস্যা। বর্তমান আধুনিক যুগেও শব্দ দূষণ নামক ব্যাধি আমাদেরকে প্রতিনিয়ত অশান্তির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অতিরিক্ত শব্দ দূষণের ফলে বাড়ছে মানসিক চাপ, কমে যাচ্ছে আমাদের স্বাভাবিক শ্রবণ শক্তি এবং সেই সাথে বাড়ছে কানের বড় বড় জটিল সমস্যা। যার চিকিৎসা ব্যয় সাধারণের আওতার বাইরে চলে গেছে।

শব্দ দূষণ একটি অপরাধমূলক কাজ। শব্দ দূষণের ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, কর্মক্ষেত্র, হাসপাতালের রোগীদের অতিরিক্ত মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শব্দ দূষণ বন্ধ করতে সরকার বহুবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। কারন সরকার এখনো পর্যন্ত কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এবং কোন আইনানুগ ব্যবস্থাও নেয়া হয়না শব্দ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে। তাই তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে প্রতিদিন। শব্দদূষণ রোধ করার জন্য সরকার হাইড্রোলিক হর্ন আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু এরপরও শব্দদূষণ কমছে না বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে।

শব্দ দূষণ রোধে আমাদের দেশে আইনের কমতি নেই। কমতি রয়েছে প্রয়োগের। ২০০২ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সংস্থা (বেলা) শব্দদূষণ বন্ধে আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। ২০০২ সালের ২৭ মার্চ উচ্চ আদালত হাইড্রোলিক হর্ন এবং বিকট শব্দ সৃষ্টিকারী যে কোন ধরনের হর্ন গাড়িতে সংযোজনের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং গাড়িতে বাল্ব হর্ন সংযোজনের নির্দেশ প্রদান করে। এই আইন ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে শাস্তির বিধানও প্রচলিত আছে। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ ১৯৭৬ এর ২৫, ২৭, ২৮ ধারামতে শব্দদূষণ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে অর্থদন্ড ও কারাদন্ড উভয়েরই বিধান রয়েছে। মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর ১৩৯ এবং ১৪০ নং ধারায় নিষিদ্ধ হর্ন ব্যবহার ও আদেশ অমান্য করার শাস্তি হিসেবে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদন্ড ও অর্থদন্ডের বিধান রয়েছে। ১৯৯৭ সালের পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নীরব এলাকায় ভোর ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ৪৫ ডেসিবল এবং রাতে ৩৫ ডেসিবল, আবাসিক এলাকায় দিনে ৫০ ডেসিবল এবং রাতে ৪০ ডেসিবল, মিশ্র এলাকায় দিনে ৬০ ডেসিবল ও রাতে ৫০ ডেসিবল, বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ডেসিবল ও রাতে ৬০ ডেসিবল এবং শিল্প এলাকায় দিনে ৭৫ ডেসিবল ও রাতে ৭০ ডেসিবলের মধ্যে শব্দের মাত্রা থাকা বাঞ্ছনীয়। এই আইন অনুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকার নির্ধারিত কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে ১শ মিটার পর্যন্ত এলাকাকে নীরব এলাকা চিহ্নিত করা হয়।

শব্দ দূষণের বিরূপ প্রভাব শুধু মানবজাতি নয়, পশুপাখির ওপরও পরছে। শব্দ দূষণের ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বিলুপ্ত হচ্ছে নানা জাতের পশুপাখি। এ ক্ষতি পুড়ো বাঙ্গালি জাতির। এভাবে চলতে থাকলে একসময় পশুপাখিগুলো আমাদের শহর থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে। যা আমাদের জন্য অমঙ্গল বয়ে আনবে।

আমাদের ঢাকাশহরসহ বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে যানবাহন এবং একই সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে শব্দ দূষণও। এই হার হ্রাস করতে হলে এখনই আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে। শব্দ দূষণের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে সবাইকে অবগত করতে হবে। নিজে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি সতর্ক করতে হবে চালকদেরকে। রাজধানীতে যানজট সমস্যার পাশাপাশি শব্দদূষণ একটি মারাত্মক সমস্যা। আইন থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ না থাকার কারণে দূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। এ জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা। 

বাঙ্গালীর সপ্ন: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট 

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবার পর থেকে শুরু হয় নতুনভাবে সবুজ বাংলা বিনির্মাণের কাজ। প্রতিনিয়ত চলতে থাকে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড। যার ফল ভোগ করছি আমরা পুড়ো বাঙ্গালী জাতি। ২০১৫ সালে অক্টোবরে মন্ত্রীসভা থেকে “বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট” উৎক্ষেপণে স্যাটেলাইট সিস্টেম কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়। আর সেই থেকেই শুরু হয় কোটি বাঙ্গালীর নতুন স্বপ্ন দেখা। বাংলাদেশকে বিশ্বমানচিত্রে মাথা নতুনভাবে উপস্থাপন করে বিশ্বজয় করার স্বপ্ন দেখি আমরা। আমাদের এ স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে খুব শীঘ্রই। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসেই এ স্যাটেলাইটটি  উৎক্ষেপণ করা হবে বলে ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। এবং ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে এবছরই তৈরি হবে বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস। যার সাক্ষী হিসেবে থাকবে পুড়ো বিশ্ব। 

“বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট” নির্ধারিত সময়ে সঠিকভাবে উৎক্ষেপণ করা হলে বাংলাদেশ উন্নয়নের এক নতুন ধারায় পৌঁছে যাবে। যার সুবিধা পাবে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ। প্রযুক্তি খাতে যুক্ত হবে এক নতুন দ্বারপ্রান্ত। ডিজিটাল বাংলাদেশ কথাটি কাটায় কাটায় পূর্ণ হবে। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ জয়ের পর এটি হবে আমাদের আরেকটি অন্যতম বিজয়। পূর্ণ হবে বাঙ্গালীর স্বপ্ন আর স্বপ্নের “বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট”। 

“বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট” উৎক্ষেপণের ফলে আমরা প্রযুক্তি খাতে উন্নতির পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও আরো সমৃদ্ধ হতে পারবো। কারন এ স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ২০টি বাংদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে এবং বাকিগুলো ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। আর এতে করেই আমরা ডাবল উন্নতির দিকে পৌঁছাতে পারবো। যেটা বাংলাদেশের জন্য সার্বিক কল্যাণ বয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি। এধরনের মহৎ উদ্যোগই বাংলাদেশকে উন্নতির চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছে দিবে। 

মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন 

মাদক! বাংলাদেশের যুব সমাজ ধ্বংস ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অন্যতম প্রধান কারন।  মাদকের ভয়াল গ্রাস একটি দেশ বা জাতির ধ্বংস করে দিতে পারে মুহূর্তেই। দেশের চলমান মাদক সমস্যা বিরাট আকার ধারণ করেছে। যা খুব সহজে বা খুব তাড়াতাড়ি সমাধান করা সম্ভবপর নয়। চাই কার্যকরী পদক্ষেপ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি।

মাদক মানুষের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায়, অর্থনৈতিক ঈ সামাজিক অবক্ষয়ের কারনও এই মাদক। বর্তমান অবস্থা এমন হয়েছে যে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও হাত বাড়ালেই খুজ সহজে পাওয়া যায় মাদক। আর এতে করে মাদক সেবন প্রবণতা বেড়ে যায় দ্বিগুণ। 

প্রায় সব বয়সের মানুষই কম বেশি মাদকের সাথে জড়িত। এ তালিকায় পথশিশু, বৃদ্ধ ও নারীরাও বিদ্দমান। হতাশা, পারিবারিক বিচ্ছেদ ও অবহেলা, পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত, খারাপ সঙ্গ ইত্যাদি কারনে মানুষই এই ভয়ংকর মাদকের দিকে হাত বাড়ায়। তরুন সমাজকে ধ্বংস করে দেয় এই মাদক।  মাদক সেবনের ফলে অকালে প্রান হারায় হাজারো মানুষ। 

মাদকের সহজলভ্যতা মাদক সেবনে উৎসাহ বাড়িয়ে দেয়। হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া গেলে মানুষ মাদক থেকে কিভাবে দূরে থাকবে? মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক কার্যক্রম মাদক বন্ধ করতে সক্ষম নয়। তল্লাশি অভিযান চালিয়ে হয়তো কিছু মাদক ধ্বংস এবং কিছু মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া সম্ভব। কিন্তু তাদের একার পক্ষে বাংলাদেশ থেকে মাদক ও মাদক ব্যবসায়ী নির্মূল করা সম্ভব নয়। আর কিভাবেই সম্ভব হবে? যখন বাংলাদেশের কোন হাই প্রোফাইল ব্যক্তির গাড়ির সিটে করে মাদক লেনদেন হয়, তখন কিভাবে তা নির্মূল হবে? বাংলাদেশ পুলিশ কিমবা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কি ততোটুকো ক্ষমতা আছে যার দ্বারা তারা হাই প্রোফাইল ব্যক্তিদের গাড়ি তল্লাশি করতে পারবে? আর ক্ষমতা থাকলেও তার সদ্ব্যবহার তারা করতে পারে? যদি পারতো তবে বাংলাদেশে মাদক প্রবণতা এভাবে বৃদ্ধি পেতো না। 

মাদকের প্রথম ধাপ হলো ধূমপান। ধূমপায়ীরাই মাদক সেবনে আগ্রহী হয়ে থাকে। এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বিশ্বের ৮০ ভাগ মাদক সেবনকারী ধূমপায়ী। প্রথমে তারা ধূমপান দিয়ে শুরু করে তারপর জরিয়ে পরে মাদকের দিকে। একবার মাদকের নেশায় ঢুকে পড়লে তা থেকে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে প্রায় সব ধরনের মাদকদ্রব্য ই পাওয়া যায়। যার মধ্যে মদ, গাজা, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, হেরোইন, কোকেন, ড্যান্ডি অন্যতম। এসব মাদকদ্রব্যের সামান্য অংশ বাংলাদেশে তৈরি হয়। বাকি বড় অংকের চালান আসে পার্শ্ববর্তী বাইরের দেশগুলো থেকে। বাংলাদেশর সার্বিক ক্ষতি সাধনের জন্য বাইরের দেশগূলো  শতভাগ তৎপর। বাংলাদেশকে মাদকদ্রব্য দিয়ে ভরপুর করে রাখছে। এতে করে তাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঠিকই হচ্ছে কিন্তু আমাদের দেশ ক্ষতি ও ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে। মাদকদ্রব্য দিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করার পায়তারা করছে আমাদের শত্রুরা। 

মাদকদ্রব্য আমাদের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই দিতে পারবে না। বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করার লক্ষে প্রয়োজন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করা,  আইনগত তৎপরতা, সরকারের হস্তক্ষেপ, জনগণের আন্দোলন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশিক্ষা। তরুন সমাজ ও দেশকে মাদকের ভয়াল আগ্রাসন থেকে উদ্ধার করতে সকলে এগিয়ে আসুন। মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। 

​ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া জ্বর রোধে করনীয় 

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া জ্বর রোধে করনীয় :


ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া কি :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ভাইরাসজনিত জ্বর যা এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। সাধারণ চিকিৎসাতেই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া জ্বর সেরে যায়, তবে হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর মারাত্মক হতে পারে। এডিস মশার বংশ বৃদ্ধি রোধের মাধ্যমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে করনীয় :

১। আপনার ঘর/বাড়ী এবং আশেপাশে যে কোন পাত্র বা জায়গায় জমে থাকা পানি ০৩ দিন পরপর ফেলে দিলে এডিস মশার লাভা মরে যাবে।
২। অপ্রয়োজনীয়/পরিত্যক্ত পানির পাত্র ধ্বংস অথবা উল্টে রাখতে হবে যাতে পানি না জমে।
৩। দিনে এবং রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারী ব্যবহার করতে হবে।
৪। বর্ষার সময় এ রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই এ সময় অধিক সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
৫। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সম্পর্কিত যে কোন প্রয়োজনে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র/হাসপাতালে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

সবাই সুস্থ্য থাকুন, নিরাপদে থাকুন।
ধন্যবাদ। 

পথশিশু 

আমাদের অবহেলা পথশিশুদের ঠেলে দিচ্ছে অন্যায়ের পথে 
স্বাধীন দেশে এ পথশিশুদেরও সমান সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বড় হওয়ার অধিকার আছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এ মৌলিক চাহিদাগুলো যথোপযুক্তভাবে পাওয়ার অধিকার তাদেরও আছে। উন্নত দেশগুলোতে দেখা যায়, প্রত্যেকটি শিশুর দায়িত্ব রাষ্ট্র কোনো না কোনোভাবে পালন করে। বেশি খেয়াল রাখা হয় প্রত্যেক শিশুর সুস্থ জীবনযাপনের প্রতি। গড়ে দেওয়া হয় প্রত্যেক শিশুর ভবিষ্যৎ বিভিন্ন সুন্দর পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে, কোনো শিশু যেন অবহেলার শিকার না হয়।

অথচ দুর্ভাগ্যের বিষয়, আশঙ্কাজনক হারে বাংলাদেশে বেড়ে চলেছে পথশিশুর সংখ্যা। মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দেশের ১০ লাখেরও বেশি পথশিশু। এদের বেশির ভাগই অপুষ্টি, যৌনরোগ ও মাদকের নেশায় আক্রান্ত। সর্বনাশা মাদকের বিষে আসক্ত হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পথশিশু। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য মতে, পথশিশুদের ৮৫ ভাগই কোনো না কোনোভাবে মাদক সেবন করে। এর মধ্যে ১৯ শতাংশ হেরোইন। ৪৪ শতাংশ ধূমপান, ২৮ শতাংশ বিভিন্ন ট্যাবলেট ও আট শতাংশ ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে নেশা করে থাকে।

সংগঠনটির তথ্যানুযায়ী ঢাকা শহরে কমপক্ষে ২২৯টি স্পট রয়েছে যেখানে নয় থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুরা মাদক সেবন করে। পথশিশুরা সাধারণত গাঁজা, হেরোইন, ঘুমের ওষুধ, ডাণ্ডি, পলিথিনের মধ্যে গামবেল্ডিং দিয়ে এবং পেট্রোল শুঁকে নেশা করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ২১টি স্পটে সূঁচের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ, ৭৭টি স্থানে হেরোইন সেবন এবং ১৩১টি স্থানে গাঁজা ও গ্লোসিন সেবন করা হয়।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সূত্র মতে, ঢাকা বিভাগে মাদকাসক্ত শিশুর প্রায় ৩০ শতাংশ ছেলে এবং ১৭ শতাংশ মেয়ে। মাদকাসক্ত ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ছেলে এবং মেয়ে শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পথশিশুদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন জানায়, মাদকাশক্ত ৮০ শতাংশ পথশিশু মাত্র সাত বছরের মধ্যে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে যায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক গবেষণা জরিপের মাধ্যমে জানা যায়, মাদকাসক্ত শিশুদের ড্রাগ গ্রহণ ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ৪৪ শতাংশ পথশিশু, পিকেটিংয়ে জড়িত ৩৫ শতাংশ, হাইজ্যাকের সঙ্গে ১২ শতাংশ, ট্রাফিকিংয়ে ১১ শতাংশ, আন্ডারগ্রাউন্ড সন্ত্রাসীদের সোর্স হিসেবে পাঁচ শতাংশ ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত ২১ শতাংশ, বোমাবাজির সঙ্গে জড়িত ১৬ শতাংশ পথশিশু। চাল-চুলা ও ঠিকানাহীন এসব শিশু সারা দিন কাগজ কুড়িয়ে, বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে বা শ্রমবিক্রি করে পারিশ্রমিক হিসেবে যা পায় তা দিয়েই চলে এদের মাদক সেবন। নকটিন, সিলিকসিন ও সোনালি নামের নেশার ট্যাবলেট খায় এরা। এছাড়া নিয়মিত স্টিক (গাঁজা দিয়ে বানানো সিগারেট) খায় সবাই।

আগামীর বাংলাদেশকে সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নিতে হলে এসব শিশুর কল্যাণে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন। যেখানে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা থাকবে এবং সেই কর্মপন্থার আলোকে পথশিশুর অধিকার নিশ্চিত করা, আইন প্রণয়ন, প্রকল্প গ্রহণ ও বরাদ্দ, পথশিশুর সংজ্ঞা যুগোপযোগী, গবেষণা, পথশিশুর তথ্য হালনাগাদ এবং পথশিশুর পথে আসার যে প্রবণতা সেটি বন্ধের একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকবে। তা না হলে নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এ পথশিশুদের ভবিষ্যৎ যদি এভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রতিনিয়ত চলতে থাকে, তাহলে তাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা ক্রমেই বাড়বে।